
John Donne
[জন্ম-১৫৭২-মৃত্যু-১৬৩১]
জন ডান ছিলেন একজন প্রভাবশালী ইংরেজ কবি যিনি শেকসপিয়র এবং মারলোর সমসাময়িক ছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী মেটাফিজিক্যাল পোয়েট্রি [Metaphysical Poetry] নামক কবিতা আবিষ্কার করেছিলেন এবং এজন্য তাকে "Father of Metaphysical Poetry" বলা হয়।
তাকে বলা হয় ভালোবাসার কবি। তার কবিতাগুলো ভালোবাসার রসায়নে পরিপূর্ণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন ডানের কবিতা দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত হয়েছিলেন। যারা "শেষের কবিতা” উপন্যাসটি পড়েছেন তারা এই লাইনটি কয়েকবার পেয়েছেন উক্ত উপন্যাসে "For God's sake hold your tongue and let me love".
তার গুরুত্বপূর্ণ কবিতাগুলো নিম্নরূপ :
- "The Ecstasy"
- "The Sun Rising"
- The Canonoization
a. For God's sake hold your tongue, and let me love - The Good Morrow
a. For love, all love of other sights controls and makes one lit-tle room, an everywhere.
b. If our two loves be one, or thou and I love so alike, that none do slacken, none can die. - A Valediction: Forbidding Mouring, এই কবিতায় কবি প্রেমিক ও প্রেমিকাকে কম্পাসের দুটি কাটার সাথে তুলনা করেছেন। কম্পাসের দুটি কাটা যেমন ঘুরে ফিরে একই জায়গায় আসে ঠিক তেমনি তারা দুজনও সবসময় একই সাথে থাকে ঠিক গ্রামীণ ফোনের বিজ্ঞাপনের মতো দূরত্ব যতই হোক কাছে থাকুন।
If they be two, they are two so as stiff twin compasses are two, They soul the fixed foot, makes no show to move, but doth, if the other do.
এই লাইনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো প্রায়ই ব্যাখ্যা হিসেবে আসে। যারা সাহিত্যের স্টুডেন্ট তারা জানেন। বিসিএসে কোটেশন হিসেবে আসার সম্ভাবনা প্রবল। - Loves Growth
- Twicknam Garden
The Sun Rising
কবিতার সারসংক্ষেপ :
কবি জন ডান তাঁর "The Sun Rising" কবিতায় সূর্যের প্রতি অভিযোগ এনেছেন এইভাবে যে, সূর্যটা বড়ই দুরন্ত আর অবুঝ। সূর্য সব গোপনীয় স্থানগুলোতে আলো ফেলে। সর্বত্র/সে প্রেমিক প্রেমিকার গোপন দিকটিতেও আলো ফেলে সব প্রকাশ করে ফেলে। কবি সূর্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সূর্য যেন প্রেমিক প্রেমিকার বাসর শয্যায় উঁকি না দিয়ে, বিচার বুদ্ধিহীন মানুষের কাছে উপস্থিত হয়। যে সব বালকেরা দেরিতে বিদ্যালয়ে আসে তাদের গালি দিতে বলেছেন কবি, কৃষকদের কৃষি কর্ম শেখাতে, শিকারিদের শিকারের কৌশল শেখাতে ডাকতে বলেছেন। এরপর হুঁশিয়ারি দেন, তিনি সূর্যকে ঢেকে দিতে পারেন যে কোনো সময় মেঘের আবরণে। কবি শেষে বললেন, সূর্য দেবের এখন অনেক বয়স হয়েছে তার এখন বিশ্রাম গ্রহণ করা উচিত, তার উচিত কোনো গোপনীয় স্থানে আলো প্রদান না করা। মোট কথা, এ কবিতায় কবি কৌতুক আর রহস্যচ্ছলে সূর্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
The Sun Rising বলতে সকালের আলোকে বুঝিয়েছেন। যে আলো যেখানে প্রয়োজন সেখানে দেয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছেন। এবং বলেছেন কবির রোমান্সের বিছানায় আলোর প্রয়োজন নেই। তাই সূর্যকে বিরত থাকতে বলেছেন তার ভালোবাসায় ব্যাঘাত ঘটানো থেকে।
A Valediction Forbidding Mourning
কবিতার সারসংক্ষেপ :
কবি জন ডান তাঁর “A Valediction Forbidding Mourning" কবিতায় তাঁর প্রেমিকার প্রতি গভীর ভালোবাসা আর নিষ্ঠার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। কারো কারো মতে, এ কবিতাটি কবি তাঁর স্ত্রী এ্যানিমোরকে উদ্দেশ্য করে রচনা করেছেন। কবি এক সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য বেড়াতে গিয়েছিলেন ফ্রান্সে। তাঁর এই অনুপস্থিতিতে তাঁর পত্নী বিয়োগ ব্যথায় কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন। কবি তাঁর পত্নীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আমাদের এই আলাদা হওয়ার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে শোকবহ করে তুলো না। এটা আনন্দকে অপবিত্র করে দেবে। কবি বলেন, তার প্রেম এতোটাই খাঁটি যে তিনি দূরে সরে এলেও তাদের দুজনার প্রেম খাঁটি ও নিখাদ, সাময়িক এই দূরত্ব তাদের মাঝে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না, ঠোঁট আর হাতের স্পর্শ না পেলেও মনের ভেতরের আবেগ, ভালোবাসার কোনোরূপ ঘাটতি হবে না। যেহেতু দুজনের হৃদয় এক সে কারণেই দুজনের ভালোবাসায় কোনোরূপ ফাটল তৈরি হবে না। কবি তাঁর পত্নীকে বলেন: তুমি, তোমার এই ভালোবাসার দৃঢ়তাই আমাকে স্থির রাখবে। মোট কথা কবি তাঁর পত্নীকে এই বলে এ কবিতায় সান্ত্বনা দেন যে, খাঁটি ভালোবাসার কোনো পরিবর্তন ঘটে না ভালোবাসার জন যতো দূরেই অবস্থান করুক না কেন।
তারা একই কম্পাসের ন্যায় কেন্দ্রকে নির্দিষ্ট করে একই বৃত্তে আবর্তন করবে। দুনিয়ার কোন কিছু তাদের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিতে পারবেনা।
Twicknam Garden
কবিতার সারসংক্ষেপ :
কবি জন ডান এর "Twicknam Garden" কবিতায় কবি রমণীকুলের ভিন্নধর্মী এবং স্বভাবজাত বিষয়টি তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন। কবিতাটি প্রেমের কবিতা হলেও এটিকে ভালোবাসার দীর্ঘশ্বাসও বলা যেতে পারে। কবি বাগানে এসেছেন বসন্ত খুঁজতে হতাশা আর বেদনার অশ্রুধারণ করে। কবি বলেন তিনি তাঁর হৃদয়ে বিশ্বাসঘাতক ভালোবাসা লালন করে এসেছেন, যা ঘন ঘন রূপ বদল করে। স্বর্গীয় বিষয়কে ভরে দেয় বিষাদে। কবি বলেন শীতকালই তাঁর জন্য ভালো ছিল, এটা হলে বরফে ঢেকে যেন বৃক্ষগুলো, যেগুলো আর কবির দিকে তাকিয়ে বিদ্রূপ করতে পারত না। কবি এখানে ভালোবাসার দ্বারা প্রত্যাখাত হয়ে বাগানে এসেছিলেন শান্তি খুঁজতে। তিনি প্রেমিকদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমরা প্রেমিকদের চোখের পানি নিয়ে গিয়ে নিজের স্ত্রীর চোখের অশ্রুর সাথে মেলাও দেখবে সেটাই খাঁটি অশ্রু, তাতে কোনো খাদ নেই। কবি বলেন, নারীদের চোখের জল দ্বারা তাকে বিচার করতে যেয়ো না। বিচার করতে হবে তার ভালোবাসার গভীরতাকে। কবি এ কবিতায় এটাই বোঝাতে চান যে রমণীকুলকে শুধু অশ্রু দ্বারা বিচার করলে ভুল হবে, প্রেমিক হৃদয় কতটা প্রদান করেছে প্রেমিক সেটাই বড়ো বিষয়, মোট কথা কবি ডান নারী প্রেমের গুরুত্ববহ একটি দিক তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন, যেটি হলো নারী প্রেমের নিখাদ দিকটি।
The Canonization
কবিতার সারসংক্ষেপ :
কবি জন ডান তাঁর “The Canonization" কবিতায় ভালোবাসার তরে একটি নিরিবিলি ক্ষণ কামনা করেছেন। তিনি জগতের কারো বিরক্তি উৎপাদন করে, কারো সমস্যা সৃষ্টি করে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে চান না। তিনি একান্তে নিরিবিলি তাঁর প্রিয়াকে ভালোবাসতে চান। তিনি অন্যদেরকে বলেন তোমরা তোমাদের অর্থবিত্ত নিয়ে সন্তুষ্ট থাকো শুধু আমাকে নিরিবিলি ভালোবাসতে দাও। তিনি এটাও কামনা করেন তাঁর ভালোবাসার কারণে যেন কারো ক্ষতি না হয়, জগতে কোনো সমস্যা না ঘটে। মামলাবাজেরা করুক, সৈনিকেরা যুদ্ধ করুক, তাতে কবির কিছু যায় আসে না তিনি নীরবে তাঁর প্রেমিকাকে ভালোবেসে যাবেন। কবি বলেন, তোমরা আমাকে যা খুশি তাই বলো, আমার কিছু যায় আসে না, আমি আর আমার প্রেমিকার অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে বাঁধা, আমরা ভালোবেসেই যাবো। যদি মরতে হয় এক সাথেই মরবেন কবি তাঁর প্রেমিকার সাথে। কবি বলেন, তিনি আর তাঁর প্রেমিকা একই সঙ্গীতের সুরে বাঁধা, একই কবিতার মাঝে জেগে রবে তাদের ভালোবাসার গাথা। মোট কথা কবি এখানে তাঁর প্রেমিকাকে নিয়ে নিভৃতে জীবন কাটাতে চান, তিনি জগতের কোনো কোলাহল চান না, সমস্ত কোলাহল হতে সরে গিয়ে একান্তে ভালোবাসার পরশ পেতে চান।
তিনি তার ভালবাসাকে প্রকৃতির মত শান্ত ও নিরবিচ্ছিন্ন হিসেবে কামনা করেছেন। সেখানে দুনিয়ার কোন কর্ম তাদের ভালবাসায় বিঘ্ন ঘটাবেনা।
Go and Catch a Falling Star
কবিতার সারসংক্ষেপ :
কবি জন ডান তাঁর “Go and Catch a Falling Star" কবিতায় একজন সৎ এবং নিষ্ঠাবান নারীকে অন্বেষণ করেছেন। কবি প্রথমেই বলেন, একটি খসে পড়া তারাকে ধরো এবং মেনড্রেক গাছের শেকড় হতে একটা মানব শিশু জন্মাও আর মৎস্য দেবীর গান শোনাও আর বেদনার হুলের জ্বালাকে প্রশমিত করো। কবি বলেছেন, তোমাকে সারাজীবন অন্বেষণ করার সুযোগ দিলাম, সারা বিশ্ব পরিভ্রমণ করে একজন সৎ রমণীর সন্ধান আমাকে এনে দাও। কবি জোর দিয়ে বলেছেন এমন রমণীর সন্ধান লাভ করা সত্যিই কঠিন। যদি এমন নারী খুঁজে পাও, তবুও আমি দেখতে যাবো না তাকে। কবি বলে যতই সৎ নারী খুঁজে বের করা যাক না কেন, তার মাঝে কিছুটা ত্রুটির ছোঁয়া অবশ্যই থাকবে। যদিও কোনো নারী বিশ্বস্ত থাকে, তবে দেখা যাবে, সে কোনো না কোনো সময় কোনো কারণে অবিশ্বস্ততার কর্ম করে বসেছে। একজনের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকার পরও সে প্রেমিকের অনুপস্থিতির কারণে সে অন্য জনকে বিলিয়ে দিতে পারে তাঁর প্রেম। মোট কথা, কবি তাঁর এ কবিতায় রমণীর হৃদয়ের দ্বৈত দিকের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন। একজন রমণী একদা তার প্রেমিকের প্রতি বিশ্বস্ত থাকলেও পরবর্তীতে তার মাঝে যে কোনো সময় পরিবর্তন ঘটে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
Batter My Heart
কবিতার সারসংক্ষেপ
কবি জন ডান কৃত "Holy Sonnets" গুচ্ছের এটি পনেরোতম কবিতা। কবি এখানে মহান ঈশ্বরের কাছে আবেদন করেছেন, তিনি যেন তাঁর ভেতরের সকল পঙ্কিলতা আর আবিলতাকে সবলে আঘাত করে দূর করে দেন। কবির হৃদয়ে ঠাঁই নিয়েছে অশুভ শয়তান, এই শয়তানের কবল হতে নিজেকে মুক্ত করতে চান কবি। কবি মনে করেন মহান ঈশ্বরের স্পর্শ পেলেই সকল অশুভ দিকগুলো পালিয়ে যাবে। শুভ দিকগুলো স্থান করে নেবে কবির হৃদয়ে। কবি আকুলতা সহকারে কামনা করেছেন ঈশ্বরের হস্তক্ষেপ। কবি চান কোনো ন্যায়পরায়ণ শাসক এসে যেন এই শহরের দখল নিয়ে কবিকে অশুভ বিষয় হতে মুক্ত করেন। কবি এখানে ন্যায়পরায়ণ শাসক বলতে ঈশ্বরের আগমনকেই কামনা করেছেন। কবি শেষে বলেন, তাঁর যাত্রা শুধুমাত্র মহান ঈশ্বরকেই লক্ষ্য করে। কবির এই বিশ্বাস প্রবল যে একমাত্র মহান ঈশ্বরই কবিকে মুক্ত করতে পারেন সব রকম অশুভ শক্তি হতে, শয়তানের কবল হতে। মহান ঈশ্বরই পারেন কবির হৃদয়কে আবিলতা মুক্ত করতে।
কবির হৃদয় শয়তান দখল করেছে যেটা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন পথ না পেয়ে কবি ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করেন। ঈশ্বর যেন তার হৃদয়কে ভেঙ্গে চুড়ে বিলীন করে আবার নতুন করে গড়ে দেন। এবং সেই হৃদয়ের দখল যেন ঈশ্বরের হয়।
দ্য গুড মোরো
সারাংশ:
John Donne-এর The Good-Morrow কবিতাটি তিন পর্বে বিভক্ত একটি ছোট গীতি কবিতা। এটি মূলত অশরীরী প্রেমের কবিতা। কবি কবিতাটির প্রথমেই কথোপকথনসুলভউক্তির মাধ্যমে কৈশোরকালের অবুঝ ভালোবাসার কথা বলেছেন যা কিনা মাতৃস্তন পানরত শিশুর মতো কিংবা ইফেসাস রাজ্যের গুহায় ঘুমন্ত সাতভাই-এর মতো।
দ্বিতীয় পর্বে কবি পরম আত্মবিশ্বাসের সাথে পরিপক্ব ভালোবাসাকে স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ ভালোবাসা হওয়ার পর প্রেমিক প্রেমিকার চিত্তে কোনো ভয় থাকে না। যদিও তাঁরা আলাদা ভুবনে বাস করেন, তাঁরা মিলিত হয়ে একটি নতুন জগৎ সৃজন করতে পারেন। সত্যিকারের ভালোবাসা দ্বারা তাঁরা অন্য সকল উৎসের ভালোবাসাকে নিয়ন্ত্রন করতে পারেন এবং একটি কক্ষকে রূপান্তর করতে পারেন মহাবিশ্বে। কবি প্রেমিক প্রেমিকার মুখচ্ছবিকে দুইটি গোলার্ধের সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে বাস্তব পৃথিবীর গোলার্ধের মতো কোনো ঠান্ডা বা অন্ধকার নেই। তৃতীয় পর্বে কবি বলেছেন যে, যেহেতু তাদের ভালোবাসা খাঁটি ত্রুটিহীন, তাই মৃত্যুর পরও ভালোবাসা অমর থাকবে। কোনো কিছুই তাদের ভালোবাসাকে নষ্ট করতে পারবে না। কবি এ কবিতায় ভালোবাসার এই শ্বাশত ভাবটাকে যৌক্তিকভাবে অমরত্ব দিয়েছেন।